ব্রয়লার মুরগির উপকারিতা ও অপকারিতা
ব্রয়রার মুরগির উপকারিতা ও অপকারিতা বলতে গেলে বলতে হয় এটি বাংলাদেশের আপামোর
সর্বসাধারণ জনগনের অতি প্রিয় একটি খাবার। এটি সহজলভ্য এবং কম দামে পাওয়া যায়।
সাস্ব্যগত দৃষ্টিকোন থেকে অনেকেই মনে করেন সাস্থ্য ঝুঁকি আছে। তাহলে ব্রয়লার
মুরগি খাওয়া আদৌ কি শরিরের জন্য ক্ষতিকর নাকি উপকারিতা আছে। নাকি আসলেই ব্রয়লার
মুরগি খাওয়া নিরাপদ, নাকি স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে আসুন সকল প্রশ্নের উত্তর জেনে
নেওয়া যাক।
পোষ্ট সূচীপত্র ঃ
- ব্রয়লার মুরগির গুনাগুন
- ব্রয়লার মুরগি খাওয়া ক্ষতিকর দিক সমুহ
- ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কি নিরাপদ
- শতর্কতা ও করণীয়
ব্রয়লার মুরগির গুনাগুন ঃ
ব্রয়লার মুরগির মাংসে প্রচুর প্রোটিন,ভিটামিন
বি6,বি12,নিয়াসিন,সেলেনিয়াম,ফসফরাস এবং নিকোটিনিক অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। এটি
দেহের পেশি গঠন এবং শক্তি বাড়ানোর জন্য উপকারী হতে পারে। একাধিক পুষ্টি
বিশেষজ্ঞের মতে ব্রয়লার মুরগির মাঙস সঠিকভাবে রান্না করলে এটি স্বাস্থ্যকর হতে
পারে এবং এটি একটি ভালপ্রোটিন সোর্স হিসাবে কাজ করে।
তাছাড়াও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী খাবার,তুলনামুরকভাবে কম দামে পাওয়া যায়,যা
সাধারণ মানুষ সহজে ক্রয করতে পারে। বিভিন্ন পদে ব্যবহারযোগ্য। গরু বা খাশির
মাংসের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির মাংস হালকা এবং সহজে হজম হয়।
ব্রয়লার মুরগি খাওয়া ক্ষতিকর দিক সমুহ ঃ
1. ক্ষতিকর হরমোন বা এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের ঝুঁকিঃ ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত
বড় করতে ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন ধরনের এন্টিবায়োটিক ও হরমোন যা মানবদেহের জন্য
মারাত্নক ক্ষতি হতে পারে । বিভিন্ন গবেষনায় দেখা গেছে,নিযমিত এসব রাসায়নিকযুক্ত
ব্রয়লারের মাংস খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল হতে পারে বা শরীরে যে
এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্রান্স থাকে তা কমতে থাকে।
এসব রাসায়নিক মুলত মুরগির বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত
হয়। কিন্ত অতিরিক্ত পরিমানে এসব রাসায়নিক শরীরে প্রবাহিত হলে তা মানব দেহের
জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। গবেষনায় আরও
দেখা গেছে ব্রয়লার মুরগিতে 67 ভাগ ইকোলাই ব্যাকটেরিয়া ও বিষাক্ত
আর্সেনিক পাওয়া গেছে। যা থেকে মানুষের মধ্যে মারাত্নক চর্ম রোগ ও ফুড পয়জনিং
সমস্যাটা বেশী দেখা দেয়।
আরও পড়ুন ঃ
আর্টিকেল লিখে মাসে লাখ টাকা আয় করুন
2. ক্যান্সারের বীজ বপন করে ঃমানবদেহে ক্যান্সারের বীজ বপন হয় খাদ্রাভ্যাস ও জীবন যাপনের জন্য। আর খাদ্যের খাদ্যের মাধ্যমে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল দেহে প্রবেশ করলে তা মানব দেহের প্রাকৃতিক েইমিউনো সিস্টেম ধ্বংশ করে ফলে আর দীর্ঘ দিনের কেমিক্যালের প্রভাবে ক্যান্সার রোগের সৃষ্টি হয়।
এছাড়া ব্রয়লার মুরগীর মাংস রান্না করার সময় তাপমাত্রা খুবই বেশী রাখতে হয় ফলে মাংসের মধ্যে কারসিনোজেনিক নামের একটি পদার্থের সৃষ্টি হয় আর এই পদার্থ মানব দেহে ক্যান্সারের জন্ম দিতে পারে। তাছাড়াও ব্রয়লার মুরগিকে বৃদ্ধির জন্য প্রচুর পরিমানে এন্টিবায়োটিক মেডিশিন খাওয়ানো হয় যা মানুষের ব্রেনের জন্য খুবই ক্ষতিকর ফলে এন্টিবায়োটিকের বিষ ক্রিয়া ধীরে ধীরে মানব দেহে ব্রেন টিউমারসহ নিউরোলজিক্যাল সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
|
3. ফ্যাটের পরিমাণ ও হরমোন জনিত সমস্যাঃ ব্রয়লার মুরগির মাংসে উচ্চ পরিমানে ফ্যাট থাকে,য়া যদি নিয়মিতভাবে খাওয়া হয়,তা উচ্চ কোলেষ্টোরল ও হৃদরোগের কারন হতে পারে। তাছাড়াও বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্রয়লার মাংস খেলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন্।
4. জীবাণু ও ভাইরাস ঃ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পালন করা ব্রয়লার
মুরগি যদি যথাযতভাবে রান্না করা না হয়,তাহলে তা খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি
তৈর িকরতে পারে। যেমন সালমোনেলা এবং ক্যাম্পিলোব্যাক্টর নামক ব্যাকটেরিয়া
মানবদেহে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
6. অ্যালার্জির সমস্যা জনিত কারণ ঃ ব্রয়লার মুরগিতে ব্যবহৃত বিষাক্ত
ট্যানারির বর্জ ও কিছু রাসায়নিক উপাদান অনেকের শরীরে অ্যালার্জি বা ত্বকের সমস্যা
তৈরী করতে পারে।
7. দেশী মুরগির তুলনায় স্বাদ ও পুষ্টিমান ঃ দেশি মুরগির তুলনায়
ব্রয়লার মুরগির স্বাদ এবং পুষ্টির মান তুলনামুলকভাবে দেশি মুরগির থেকে কম।
আরও পড়ুন ঃ সুসাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পর্কে
ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কি নিরাপদ ?
ব্রয়লার মুরগি খাওয়া সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ হতে পারে যদি কিছু সতর্কতা অবলম্বন
করা হয় ঃ
1. সঠিক পদ্ধতিতে রান্না ঃ ব্রয়লার মুরগির মাংস ভালোভাবে রান্না করে
খাওয়া উচিৎ,যাতে জীবাণুমুক্ত বা ধ্বংশ হয়। বিশেষত,মুরগির মাংসের মধ্যে সঠিক
তাপমাত্রায় রান্না করতে হবে যাতে সালমোনেলা ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া মারাত্নক না
হয়।
2. বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে কেনা ঃ পরিচিত ও বিশ্বস্ত পোল্ট্রি ফার্ম
থেকে বা বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে মুরগি কেনা, যেগুলি নিয়মিত পরীক্ষিত ও
স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পালন করা হয়।
3. শতর্কতা ও করণীয় ঃ ব্রয়লার মুরগি খাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত
খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। ভারী খাবার বা ফাষ্ট ফুড হিসেবে এর ব্যবহার সতর্কতা
অবলম্বন করা উচিৎ এবং শিশুর খাদ্য তালিকায় সতর্কতার সাথে ব্রয়লার মাংস দিতে
হবে।
উপসংহার ঃ ব্রয়লার মুরগির মাংসে প্রোটিন,ভিটামিন বি6 এবং নিকোটিনিক
অ্যাসিডের ভালো উৎস,যা পেশি গঠন ও শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তবে
অ্যান্টিবায়োটিক,হরমোন ও ক্ষতিকারক ভারী ধাতুর ঝুঁকি উচ্চ চর্বি এবং
অতিরিক্ত খেলে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ও হজমের সমস্যা হতে পারে তাই পরিমিত খাওয়া
উচিৎ। ব্রয়লার মুরগি খাওয়া স্বাস্থ্যকর হতে পারে যদি তা সঠিকভাবে প্রস্তুত এবং
সঠিক উৎস থেকে ক্রয় করা হয়।
তবে অতিরিক্ত হরমোন,এন্টিবায়োটিক এবং ফ্যাটের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকতে
পারে,তবে স্বাস্থ্য সচেতনের দিকে খেয়াল করে পরিমিত ব্যবহারের মাধ্যমে বা
খাবার নির্বাচন ও সঠিক পদ্ধতিতে প্রস্তুতির মাধ্যমে এর উপকার পাওয়া সম্ভব।
খাবারের প্রতি সচেতনতা এবং নিরাপদ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কোনভাবে
ক্ষতিকারক নয়। তবে একান্তই স্বাস্থ্য সচেত হলে দেমি মুরগি বা বিকল্প প্রোটিন উৎস
বেছে নেওয়াই অধিক নিরাপদ।


থ্রিক্যাটভিলাতে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url